এক সময় বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গজালিয়া গ্রামের বিলকিস বেগমের সংসার মানেই ছিল নিরন্তর সংগ্রাম।
ছোট্ট খড়ের ছাউনি, টিনের চালা আর অপ্রতুল আয়ে দিন গুনতেন — দরিদ্রতা যেন তাঁদের চিরসঙ্গী। তবু বিলকিস বেগমের চোখে ছিল আলাদা দীপ্তি। তিনি জানতেন অন্ধকার ভেদ করেই আলো খুঁজে নিতে হয়। একটি গাভী ছিল তাঁর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন, কিন্তু একটি মাত্র গাভী দিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসছিল না।
বিলকিস বেগম তাঁর গাভী পালন উদ্যোগে
জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত
অবশেষে ২০২৫ সালে তিনি অগ্রণী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ভবানীপুর শাখার গজালিয়া মহিলা সমিতির ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির সদস্য হন — এটাই ছিল তাঁর জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। সদস্য হওয়ার পরই বিলকিস বেগম অগ্রণী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি থেকে নানান দিকনির্দেশনা পেলেন, সম্ভাবনার সাথে পরিচিত হলেন। প্রথম ধাপে সামান্য অর্থও পেলেন — সেই সহায়তাই হয়ে উঠলো তাঁর স্বপ্নরাজ্যের প্রথম পুঁজি।
তিনি নতুনভাবে ভাবতে শুরু করলেন — বিভিন্ন জাতের গাভী পালনের প্রকল্প হাতে নিলেন। শুরুটা ছিল ক্ষুদ্র, কিন্তু বিশ্বাস ছিল অটল — এই বিশ্বাসই হয়ে উঠলো তাঁর অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি।
"অন্যের চোখে হয়তো ছিল ঝুঁকি, কিন্তু আমার কাছে এটি ছিল ভবিষ্যতের বীজ।"
— বিলকিস বেগম, গজালিয়া গ্রাম, উজিরপুর
ধাপে ধাপে উত্থান
বিলকিস বেগম নিয়মিত পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং অগ্রণী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মাইক্রো এন্টারপ্রাইজ প্রকল্প (এম.ই.) থেকে ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করা যাত্রা পৌঁছালো ছয় লক্ষ টাকায়। বিলকিস বেগম কেবল গাভী পালনে থেমে থাকেননি — পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল পালন করছেন এবং হাঁস-মুরগি পালনের কথাও ভাবছেন।
ট্যাগ:
পূর্ববর্তী গল্প
ববিতা দাসের ভবিষ্যৎ জয়ের গল্প
পরবর্তী গল্প নেই

