গৌরনদী উপজেলার বাইশখোলা গ্রামের পূর্নিমা রানী বিশ্বাস এর সংসার জীবন ছিল এক সময় অভাব অনটনে ভরা।
গরীব পরিবারে মেয়ে পূর্নিমা রানী বিশ্বাস। পরিবারে আর্থিক অনাটনের কারণে বেশি পড়াশুনা করতে পারেননি, তাই পরিবার থেকে বিয়ে দেওয়া হয় অলোক বিশ্বাসের সাথে। ছোট্ট এই সংসারে এসে নিজেই ধরেন সংসারের হাল। তারপরও তিনি স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো সফলতা আসছিল না। ২০২৩ সালে যখন তিনি অগ্রণী ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির বাটাজোর শাখায় সদস্য হন এবং ২০২৪ সালে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।
পূর্নিমা রানী বিশ্বাস তাঁর পানের বরজে
তাঁর স্বপ্ন বাস্তবতার মুহূর্ত
সদস্য হওয়ার পর তিনি পান চাষ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং কৃষি প্রণোদনা পান। এই সহায়তাকে পুঁজি করে তিনি নতুন উদ্যমে পান চাষ পরিচালনা শুরু করেন। নিয়মিত পরামর্শ গ্রহণ এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলে ধীরে ধীরে তাঁর পানের বরজে উন্নতি আসতে থাকে। প্রথমে তিনি বিশ শতাংশ জমি নিয়ে পান চাষ শুরু করেছিলেন।
"সঠিক দিকনির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে স্বপ্ন বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে।"
— পূর্নিমা রানী বিশ্বাস, বাইশখোলা গ্রাম, গৌরনদী
পূর্নিমা রানী বিশ্বাসের স্বপ্নপূরণ
বর্তমানে তিনি একশত শতাংশ জমিতে পান চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে পানের বরজ থেকে পনের হাজার টাকা আয় করে তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠেছেন। পানের বরজের বিভিন্ন রকম পরিচর্যা ও সংসারের সমস্ত প্রকার খরচ এই পানের বরজ থেকেই বহন হচ্ছে। পূর্নিমা রানী বিশ্বাস আজ একজন সফল উদ্যোক্তা। তাঁর গল্প প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে স্বপ্ন বাস্তবতায় রূপ নিতে পারে।
ট্যাগ:
পূর্ববর্তী গল্প নেই
পরবর্তী গল্প
ববিতা দাসের ভবিষ্যৎ জয়ের গল্প